সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

বাবা- কোয়েনা দাস



 কষ্টটাকে চেপে রেখে, হাসি ঠোঁটের কোণে 

আদরগুলো চাপা থাকে , তাঁর ধমকই সবাই শোনে 

মাথার উপর বটগাছ হয়ে দেয় আমাদের ছায়া 

কঠোর মুখের গভীরেও তাঁর হাসিতে বড় মায়া |

চাওয়া - পাওয়ার সব আবদার তাঁর কাছে দেয় ধরা 

ছেলেবেলায় রোজ শোনাতেন ঘুম-পাড়ানি ছড়া ,

মেয়ে একদিন বড় হবে , যাবে শশুরবাড়ি 

শতকষ্টেও বিদায় সে দেয় , মুখ করেনা হাঁড়ি 

কাজের চাপে মাঝে মাঝে সময় ও পায় না 

বাড়ির কথা মনে পড়ে , তবু কথা হয়না |

সকাল বেলা বেরিয়ে সে যায় , কাজ থেকে ফেরে রাতে 

তবু কন্যার আবদার সবই থাকে তাহার হাতে ,

মেয়ের ভালো রেজাল্ট হলে যার গর্বে ভরে বুক 

মাঝে মাঝেই ঝিলিক দেয় উজ্জ্বল ওই মুখ 

নিজের জন্য জিনিস কিনতে তাঁর ভীষণ অনীহা 

সেই টাকাতে কিনবে মেয়ের বিয়ের জড়োয়া |

কঠোর খোসার ভিতরে লোকানো নরম একটা মন 

লক্ষ্য শুধু একটাই তাঁর - আমাদের আশাপূরণ ,

ক্লান্ত শরীর , টলমলে পা , তবু করতেই হবে রোজগার 

টাকা ছাড়া চলবেনা দিন , তাঁর কাঁধেই গোটা সংসার 

পারিপার্শ্বিক চাপেই বোধহয় তাঁর বাইরেটা হয় শক্ত 

সবার মুখে হাসি ফোটাতে জল হয়ে যায় রক্ত |

কাজের ফাঁকে যে মানুষটা একটু সময় পেলে 

সবার সাথে সময় কাটায় হেসে আর খেলে ,

সততাই যাঁর পরম ধর্ম , সত্য যাঁহার প্রাণ 

পরিবারের সবাইকে যে দেয় প্রাপ্য মান

আত্মত্যাগের অঙ্গীকারেই তাঁর পরম শান্তি 

দিনের শেষে মুখে হাসি , যতই আসুক ক্লান্তি | 

এই পৃথিবীতে যত আছে ভয় , নোংরা হিংস্র থাবা , 

সবকিছু থেকে বাঁচিয়ে যে রাখে ,তাঁর নাম 'বাবা' ||  

মন্তব্যসমূহ

  1. আহা কী সুন্দর লিখেছ । মন ভরে গেল।

    উত্তরমুছুন
  2. ভীষণ সুন্দর লিখেছে মন তো ভরছে এত সুন্দর কথা মনে গেঁথেগেছে আমার বুকভরা ভালবাসা রইল আর আশীর্বাদ অনেক বড হোক এই কামনা করি

    উত্তরমুছুন

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ঝড়ের আড়ালে- দোলা সাহা

  অসহায় স্তব্ধতায় বুক দুরু দুরু; ক্ষনিক আশা যাহা ছিল মনে, ভাঙিল তা প্রবল করাঘাতে। বেদনার গ্লানি, আর শোকাতুর মন বাধিল ক্ষনিক আশা একটু স্নেহের পরশ জরাহীন ভারতবর্ষ মুক্ত করো সবে হারিয়ে যেতে দেবনা আমরা গভীর অন্ধকারে শত শত ক্ষত ভরিয়ে তুলব- গভীর মমতায় ভরা স্নেহের প্রলেপে।

সাপ্তাহিক কবিতা আসর- কণ্ঠে তাপসী সিংহ ( রচনা - অংশুমান কর)