সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পচন- মনোজ কুমার সরকার

 


আজ যে কাহিনীর অবতারণা করতে চলেছি পাঠকের কাছে তা নিছক একটি গল্প হলেও আসলে আমার জীবনেই এই বিচিত্র ঘটনাটি ঘটেছিল। অন্তত সেদিন একবিংশ শতাব্দীর যুক্তিবাদী শিক্ষিত মানুষ হওয়া সত্বেও আমি এই ঘটনার জটিল রহস্যের কোন ব্যাখ্যা খুঁজে পাইনি। সেই বিচিত্র ঘটনার দর্শকের ভূমিকা নেওয়া ছাড়া সেদিন আমার আর কিছুই করার ছিল না।

বছর দশেক আগের কথা। সেবার গ্রীষ্মের ছুটিতে গেলাম মামার বাড়ি বেড়াতে ।মা, বাবা, ভাই ও আমি অর্থাৎ সপরিবারে ।আমার মামাবাড়ী রানাঘাটে কাপাস ক্যাম্পের কাছাকাছি হরিনাথপুরে। হরিনাথপুর একটি ছোট কলোনি বিশেষ ।দেশভাগের পর বহু ছিন্নমূল মানুষ সেখানে পাকাপাকি তাদের বসতি স্থাপন করেছিল। দিদিমা প্রায়ই বলতেন এখানে আগে ছিল শুধুই জল কচুর বন আর আঁশ শেওড়ার ঝোপ। এমনকি আমি নিজেও ওই অঞ্চলে গিয়ে বেশ কিছু পরিত্যক্ত জলা জমি দেখেছি। প্রোমোটারের নেক নজরে পড়লে সেখানে হয়তো ফ্ল্যাটবাড়ি উঠতে পারত। এমনিতে হরিনাথপুর জায়গাটা আমার ভীষণ প্রিয়। আমরা কলকাতার মানুষ। গ্রামবাংলায় আসি একটু টাটকা বাতাসের খোঁজে, আর হরিনাথপুরে সেসব অফুরন্ত। এমন একটি চমৎকার জায়গায় এসে এত ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা হবে যদি আগে জানতাম তাহলে সেবার গ্রীষ্মের ছুটিতে কখনোই মামা বাড়ি যেতাম না।


‌আমার মামা বাড়ির পাশেই ঢিলছোঁড়া দূরত্বে থাকেন মধ্য বয়স্কা এক বিধবা মহিলা ।সংসারে একটি মেয়ে ছাড়া তার আর কেউ নেই ।আমরা ওনাকে মাধবী মাসি বলে ডাকতাম। মাসি বিড়ি বাঁধতেন, আর মেয়েটি নার্সের কাজ করতো। গায়ের রং বেশ ময়লা। সেই কারনেই কিনা জানিনা ফুলিদি অর্থাৎ মাধবী মাসির মেয়েটির ছাব্বিশের কোঠা পেরিয়েও তখনও বিয়ে হয়নি। প্রতিবার যখন মামার বাড়ি যাই দেখেছি মাধবী মাসি আমাদের অভ্যর্থনা করেছেন। হাসিমুখে বলতেন ,'ওরে বাপরে! সুজাতা তোর ছেলে দুটো তো বেশ বড় হয়েছে। ওরা বেশ লম্বা চওড়া ঠিক তোর বরের মতোই। তাছাড়া তুই ও তো আর বেঁটে নোস।'সুজাতা আমার মায়ের নাম ।মা বলতেন,' মাধুদি তোমারও কিন্তু বয়স হচ্ছে। চুলে পাক ধরেছে।'মাসি তার পানপাতার মত মুখটিতে একটু হাসির ঝিলিক তুলে বলতেন,'ও তাই বুঝি,তা হবে হয়তো।'মাধবী মাসির ওই মিষ্টি

‌হাসিটুকুর জন্যই তাকে আরও বেশি আন্তরিক লাগতো আমার। শুধু কি তাই, দিদিমার সাথে ফাইফরমাস খাটতে তার জুড়ি ছিল না। সেই মাধবী মাসিকে সেবার কোথাও দেখতে পেলাম না। খুব অবাক হয়েই নিলু মামাকে সে কথা জিজ্ঞেস করতেই তিনি ঠোটে আঙ্গুল দিয়ে আমায় চুপ করতে বলে ইশারায় আড়ালে ডেকে নিয়ে গেলেন ।খুবই অবাক হলাম ।তবুও কৌতুহলী হয়েই জানতে চাইলাম,' ও নিলু মামা মাধবী মাসির কি হয়েছে?' মামা সন্তর্পনে আমাকে বললেন ,মাধুদি আর বাঁচবে নারে তাতাই ।সবই অদৃষ্ট বুঝলি ।কোন এক অজানা রোগে ওর দুই পায়ের হাঁটুর নীচ পর্যন্ত পচে গেছে।' খুব অবাক হয়েই বললাম,'সে কি! এসব কি করে হল।'মামা বললেন,'ওই যে বললাম অদৃষ্টের লিখন,খন্ডাবে কে বলতে পারিস।এ এমনই ভয়াবহ রোগ ডাক্তারেরা পর্যন্ত হিমশিম খাচ্ছেন বুঝলি।'তারপর ম্রিয়মান হয়ে বললেন ,'আর কিছুই করার নেই বুঝলি ।'আমি জিজ্ঞেস করলাম ,'আচ্ছা মামা ডাক্তারের অভিমত কি এই বিচিত্র রোগ সম্বন্ধে ।এত উন্নত চিকিৎসা বিজ্ঞানের যুগেও তারা কিছুই করতে পারলেন না। এও কি বিশ্বাসযোগ্য ব্যাপার। যেখানে দুরারোগ্য ক্যানসার থেকেও অনেকে বেঁচে ফিরছেন!' নিলু মামা একটু ব্যাঙ্গের সুরে বললেন,' যুক্তিতর্ক ছাড়, তোর ডক্টর গুহকে মনে আছে।'' হ্যাঁ হ্যাঁ ডক্টর 

‌শুভ্রনীল গুহ তো।'

‌মামা বললেন,' ঠিক তাই। অত বড় এফ. আর .সি. এস ডাক্তার ।রোগিনী দেখেই চোখ কপালে তুলে ছিলেন। তারপর হতাশ ভাবে মাথা নেড়ে কি বললেন জানিস'।' মশাই এমন জটিল বীভৎস কেস আমার কুড়ি বছরের ডাক্তারী জীবনে কখনো দেখিনি ।শুধু তাই নয় শুনিওনি কখনো।'

‌মাধুদির মেয়ে খুবই অবাক হয়ে প্রশ্ন করেছিলো,

‌' আচ্ছা ডাক্তারবাবু এটা সেপটিক নয় তো?' ডাক্তার গুহ খুবই দুঃখিত হয়ে বলেছিলেন,' নারে মা, এ সেপটিক নয় ।তার লক্ষণ আলাদা। এ আরো ভয়াবহ কিছু। প্রথমে ভেবেছিলাম বুঝি পা দুটো কেটে বাদ দিলেই ঝামেলা মিটবে ,কিন্তু সে গুড়ে বালি। এক বিচিত্র ফাংগাল ইনফেকশন। ধীরে ধীরে গোটা দেহটাই পচতে  শুরু করবে। যা মনে হচ্ছে আর মাস দেড়েকের বেশি কিংবা মাসখানেক ।'

‌আমি কিছু একটা প্রশ্ন করব ভাবছিলাম কিন্তু তার আগেই নিলু মামা বললেন ,' যাবি নাকি দেখতে? পচা মাংসের গন্ধ সহ্য করতে পারবি তো? বাড়ির সীমানার মধ্যে গিয়ে দাঁড়ানো দুষ্কর ।আমাদেরই দম বন্ধ হয়ে আসে ,আর তোরা তো ছেলেমানুষ।'বললাম ,'অভ্যাস নেই ঠিকই, তবে ক্যালকাটা মেডিকেল কলেজের মর্গে বার দুয়েক গেছি।' মামা একটু বিস্মিত হয়ে আমার মুখের দিকে চাইতে হেসে বললাম,' বিশ্বাস হলো না তো? আমাদের সহপাঠী নীলাঞ্জন যখন বাইক অ্যাকসিডেন্টে মারা গেল তখন ওর বডি আনতে গিয়েছিলাম। আর একবার গেছিলাম আমাদের ফ্ল্যাটের বিশ্বনাথ,  বাবুর মেয়ে মালতি যখন গায়ে আগুন দিয়ে আত্মহত্যা করেছিল তখন ।ওফ্ সে কি বীভৎস ব্যাপার ।গায়ের চামড়া খুলে খুলে পড়ছে '।মামা ঠোঁটে আঙ্গুল দিয়ে আমাকে চুপ করতে বলে বললেন ,'থাক থাক সে আর তোকে বর্ণনা বলতে হবেনা, চল আমার সঙ্গে একবার দেখে আসবি।'

‌মাধবী মাসির বাড়ির দিকে যেতে যেতে নীলু মামা আমার খুব কাছে সরে এসে বললেন,' আরও একটা ব্যাপার আছে জানিস , রোগটা নাকি ছোঁয়াচে। আবার অনেকে এটাও বলছে এ ওদের পূর্বপুরুষের পাপের ফল।  কানাঘুঁষো শুনছি গ্রামের মাতব্বরেরা ওদের মা মেয়েকে এক ঘরে করেছে।'কথা শেষ না হতেই আমরা এসে পড়লাম মাধবী মাসিদের বাড়ির কাছাকাছি। মামা বললেন,' কিরে পাচ্ছিস গন্ধটা?' মিথ্যে বলব না প্রথমে আমি কোন গন্ধই পাইনি। সেটা হয়তো একটু অন্যমনস্ক ছিলাম বলে। কিন্তু তারপর ঠিকই পেলাম। প্রথমে তীব্র ডেটল তারপর উৎকট মাংস পচা দুর্গন্ধ ।তবে তখনো ঠিক বাড়ির উঠোনে আমাদের পা পড়েনি ।নিলু মামা একটু হেসে বললেন,' কিরে তে তো সহ্য করতে পারবি ?না হলে এইবেলা ফিরে চল'। আমি দৃঢ় সংকল্পের সুরে বলে উঠলাম,' না না যখন এসেছি তখন এর শেষ দেখেই যাব ।'গন্ধটা ক্রমশই তীব্র থেকে তীব্রতর হয়ে উঠছিল ।যখন আমরা রোগিণীর করগেট টিনের ঘর টাতে পৌঁছলাম তখন অসহনীয় দুর্গন্ধে আমার দম বন্ধ হয়ে যাবার জোগাড় হল। তবুও দাঁতে দাঁত চেপে কোনরকমে দাঁড়িয়ে রইলাম। মাধবী মাসি আমার দিকে এক প্রকার বিচিত্র দৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে হঠাৎই ঝাঁঝালো কন্ঠে ভৎসর্নার সুরে বলে উঠলেন,' কিরে নিলু তোর আর বুদ্ধিশুদ্ধি হবে না? আমাকে দেখতে এসেছিস না তামাশা করতে? আমিতো চিড়িয়াখানার জন্তু নই ।'মামা খুবই অপ্রস্তুত হয়ে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে রইলেন। মাসি এরপর আমাকে বললেন,' ও তুইও এসেছিস ?দেখ আমার পরিণতি। দুচোখ ভরে দেখে নে। তোরা তো দেখতেই এসেছিস ।আমি আর কদিনই বা আছি। মাধবী মাসির মেয়ে ফুলি বহু কষ্টে ওকে শান্ত করার চেষ্টা করতে উনি একটু শান্ত হলেন ঠিক ই তবুও ক্রমাগত বলতে লাগলেন ,'পাপ। এসব পাপের ফল'। আমার পক্ষে বেশিক্ষণ সেখানে থাকা সম্ভব হলো না। হাতে মৃদু টান পড়তেই বুঝলাম মামার ও একই অবস্থা।যাই হোক ,সেদিন বাড়ী ফিরলাম ঠিক ই তবুও একটা পচা মাংসালো গন্ধ লেগে রইলো আমার নাকে। আমার স্মৃতি জুড়ে সমুদ্র সৈকতের ভিজে বালিতে গভীর পায়ের ছাপের মতোই জেগে রইল একটা দুর্বিষহ লবণাক্ত স্মৃতি। কেবলই মনে হতে লাগলো চোখ খুললেই দেখতে পাবো মাধবী মাসির বীভৎস দুটো পচা-গলা পা।মানুষের পা বলে যাকে আর প্রায় চেনাই যায় না। হলদে রস গড়িয়ে পড়ছে সেই বীভৎস পা দুটো থেকে ।অজস্র মাংসাশী কিলবিলে সাদা সাদা পোকা গিজগিজ করছে। ঝাঁকে ঝাঁকে উড়ে বেড়াচ্ছে ঘৃণ্য নীল মাছির দল। উফ্ সে কি ভয়ংকর নরক যাতনা। বেচারী ফুলি দিদির কথা ভেবে খুব কষ্ট হলো। রাতে খেতে বসতে গিয়ে আরেক বিপত্তি। জানিনা কেন কিছুই খেতে পারলাম না। মনে হতে লাগল পচা মাংস ও ডেটল মিশ্রিত একটা গন্ধ আমাকে ঘিরে রয়েছে। দিদিমা ভারী অবাক হয়ে আমাকে লক্ষ্য করছিলেন। হঠাৎ বলে উঠলেন,' নিলু ওরে কোথায় লইয়া গেছিলি?' মামার বিবর্ণ মুখের দিকে তাকিয়ে তারপর বললেন ,'বুঝসি। আমারে আর বোঝাইতে হইব না। বেয়াদব পোলাপান সব।' খাওয়া-দাওয়ার পাট চুকলে চুপিচুপি মামার কাছে গিয়ে হাজির হলাম। মামা একটু অপ্রস্তুত হয়ে বললেন,' ইস্ আগে জানলে তোকে নিয়ে যেতাম না ।আমার জন্য তোর খাওয়া-দাওয়া পন্ড হলো '।বললাম,' ও কিছু নয়। তবে তুমি কিছু একটা লুকাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে'। মামা বললেন,' কি করে বুঝলি ?'বললাম ,'তোমার মুখ দেখেই বুঝতে পেরেছি '।মামা বললেন,' ঠিক ধরেছিস। তবে বলি শোন রাতে পচা মাংসের গন্ধে ওদের বাড়ির আশে পাশে শেয়াল ঘুরে বেড়ায় তা কি জানিস?' বললাম,' সে কি!' বললেন,' হ্যাঁ রে তোর দীনেশ মামাকে ফুলি বলেছিল। সেখানে আমিও ছিলাম। তখন অতটা গা করিনি ।গত পরশু ক্লাব থেকে তাস খেলে ফেরার পথে আমি আর বিশ্বাস দের বাড়ির ঝন্টু দেখেছি দুটো শিয়াল ওদের বাড়ির আশেপাশে ঘুরে বেড়াচ্ছে ।কি মনে হল ঝন্টু কে একটু দাঁড়াতে বলে ভালো করে শেয়াল দুটোকে লক্ষ্য করলাম ।দেখি মাঝে মাঝে শেয়াল দুটো কিসের গন্ধ শুঁকছে। তখনও বুঝতে পারিনি জানিস। কৌতুহল বড় বালাই। চমক ভাঙলো তখন যখন দেখলাম মাধুদির করগেটের দরজায় নাক ঠেকিয়ে ওর মধ্যে ঘ্রাণ নিচ্ছে।' আমার বিস্মিত সংশয়পূর্ণ মুখের দিকে তাকিয়ে মামা বলে উঠলেন,' ও বিশ্বাস হলো না বুঝি তোর? দেখতে চাস তুই? তবে চল আমার সঙ্গে'। ভয়ে ভয়ে বললাম ,'থাক না মামা। শুনেছি অধিক কৌতুহল ভালো না। আমার প্রমাণ চাইনা। তোমার কথা আমি বিশ্বাস করলাম।' সেই রাতে ঘুম এলো না চোখে ।হয়তো ভোরের দিকে একটু চোখ লেগে এসেছিল। ঘুম ভাঙলো আমার ভাই বিট্টুর ডাকে। ও বলল ,'দাদা ওঠ,দেখ মাধবী মাসিকে অ্যাম্বুলেন্সে কল্যাণী হসপিটালে নিয়ে যাচ্ছে ।'প্রশ্ন করলাম,' সঙ্গে কে যাচ্ছে বলতে পারিস?' দিদিমা পান চিবোতে চিবোতে একরাশ বিরক্তি তে বলে উঠলেন,' কেরা আর যাইবো কও? তোমার,  নিলু মামা যাইতাসে '।ওর তো আর খাইয়া কাম নাই ।লগে ফুলিও যাইবো'।পরে শুনেছিলাম কল্যাণী হসপিটালেই নাকি হতভাগিনী মারা গেছেন।

‌ এই ঘটনার প্রায় বছর দশেক পর আমি তখন কলেজে এম.এ প্রথম বর্ষের ছাত্র। একদিন রাতে মা-ই ফোন করে খবরটা দিলেন। বললেন,' একটা দুঃখের খবর আছে তাতাই। তোর ফুলি দিদি মারা গেছে ।'বললাম,'-সেকি !কিভাবে এ দুর্ঘটনা ঘটলো?' উত্তরে মা শুধু বললেন,' কেন তোর মনে নেই তোর মাধবী মাসির কি হয়েছিল। ওর মেয়ের ক্ষেত্রেও ঠিক তাই হয়েছে'। শুনে মনটা খুবই খারাপ হয়ে গেল। মনে পড়ে গেল বেশ কিছু বছর আগে মাধবী মাসির শোচনীয় পরিণতির কথা।সেইসঙ্গে মনে পড়ল নিলু মামা সেদিন অদৃষ্টের দোহাই দিয়েছিলেন। কিন্তু এই কি বিধিলিপি! আমিতো জানি সেদিনকার সেই জীবন্ত নরক যন্ত্রণা সহ্য করেও ফুলি দিদি কতখানি নিঃস্বার্থভাবে ওর মায়ের সেবা করেছিল। আর তারই আজ এই পরিণতি ।পরে নিলু মামার কাছেই শুনেছিলাম ফুলিদিদির শোচনীয় পরিণতির কথা। সেই বিচিত্র ব্যাধির দুঃসহ যন্ত্রণার সময়টিতে গ্রামের একটি মানুষও ওর দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয় নি। আরও আশ্চর্যের কথা এই, মরার সময় বেচারিকে এক গন্ডুষ জল পর্যন্ত কেউ  দেয় নি। এমনকি শেষ পর্যন্ত ওর সৎকার করেছিল পুলিশ। আরও দিন কয়েক পরে নিলু মামার বন্ধু রঞ্জিত মামা কলকাতায় কি কাজে এসেছিলেন শুনে তার সঙ্গে দেখা করে এক বিচিত্র ব্যাপার শুনে চমকে উঠলাম । শুনলাম ইতিমধ্যেই হরিনাথপুরে আরো দুই-একজন সেই বিচিত্র রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ।ফ্যাকাসে মুখে রঞ্জিত মামা বললেন,' যদি বিশ্বাস করিস তো তোকে একটা কথা বলি শোন। মাধুদিদের সেই পরিত্যক্ত ভিটেটা আজও তেমনই পড়ে আছে। সেখানে দিনে-দুপুরে এখনো সেই বিচিত্র গন্ধ পাওয়া যায়। প্রতিবার যখন ই সে  গন্ধ তীব্র আকার ধারণ করেছে ঠিক তখনই গ্রামের কোন ও একজনকে গ্রাস করেছে সেই বিচিত্র,  ব্যাধি'।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

লেদ মেশিন- মনোজ কুমার সরকার

বহুদিন আগের কথা। আমি তখন অবিভক্ত বিহারের একটি অঞ্চলে কারখানার সুপারভাইজার।বেশিরভাগকর্মচারী অবাঙালী হলেও তাদের মধ্যে জনা পাঁচেক বাঙালীও ছিল। এদের মধ্যে আবার প্রিয়তোষ ছিল ম্যানেজার। ঐ যা হয়, ধীরে ধীরে আমাদের মধ্যে একটা বন্ধুত্ব গড়ে উঠলো। তাছাড়া ও ছিল আমার মতই গ্রাজুয়েট। সত্যি কথা বলতে কি সারাজীবনে প্রিয়র মত বন্ধু আর কখনো পাইনি। আমি শুরুতেই মধুপুরের কাছে ঝিল্লি এলাকায় একটি বাড়ি ভাড়া নিয়েছিলাম। বাড়িওয়ালা সুখান রাম একদিন বলেছিল,"একটা কথা বলি বাঙালি বাবু, কিছু মনে করবেন না, এখানে আপনি একা থাকেন, কোনো বন্ধু জুটিয়ে লিন, বাড়িভাড়া আধা হয়ে যাবে"। আমারও কথাটা মনে ধরল। পরদিন কাজের ফাঁকে চুপিচুপি প্রিয়তোষ কে কথাটা বলতেই ও যেন হাতে চাঁদ পেল। খুবই খুশি হয়ে বলল,"এ তো খুবই ভালো প্রস্তাব, লোভনীয় তাতে সন্দেহ নেই, আমি যেখানে এখন থাকি তাকে ভদ্র পাড়া বলা চলে না,বুঝলে ভায়া কিছু চাষাভুসো খোট্টাদের বাস সেখানে। তারপর রাত্রিবেলা মাতাল হয়ে যা শুরু করে তাতে ঘুম তো দূরের কথা টেকা দায় হয়ে পড়ে"। আমি বাড়ি বদলানোর কথা বলতেই ও বললো,আজকে রবিবার, খুবই ভালো সময়। ওইদিন ছুটি আছে ফ...

বাবা- কোয়েনা দাস

 কষ্টটাকে চেপে রেখে, হাসি ঠোঁটের কোণে  আদরগুলো চাপা থাকে , তাঁর ধমকই সবাই শোনে  মাথার উপর বটগাছ হয়ে দেয় আমাদের ছায়া  কঠোর মুখের গভীরেও তাঁর হাসিতে বড় মায়া | চাওয়া - পাওয়ার সব আবদার তাঁর কাছে দেয় ধরা  ছেলেবেলায় রোজ শোনাতেন ঘুম-পাড়ানি ছড়া , মেয়ে একদিন বড় হবে , যাবে শশুরবাড়ি  শতকষ্টেও বিদায় সে দেয় , মুখ করেনা হাঁড়ি  কাজের চাপে মাঝে মাঝে সময় ও পায় না  বাড়ির কথা মনে পড়ে , তবু কথা হয়না | সকাল বেলা বেরিয়ে সে যায় , কাজ থেকে ফেরে রাতে  তবু কন্যার আবদার সবই থাকে তাহার হাতে , মেয়ের ভালো রেজাল্ট হলে যার গর্বে ভরে বুক  মাঝে মাঝেই ঝিলিক দেয় উজ্জ্বল ওই মুখ  নিজের জন্য জিনিস কিনতে তাঁর ভীষণ অনীহা  সেই টাকাতে কিনবে মেয়ের বিয়ের জড়োয়া | কঠোর খোসার ভিতরে লোকানো নরম একটা মন  লক্ষ্য শুধু একটাই তাঁর - আমাদের আশাপূরণ , ক্লান্ত শরীর , টলমলে পা , তবু করতেই হবে রোজগার  টাকা ছাড়া চলবেনা দিন , তাঁর কাঁধেই গোটা সংসার  পারিপার্শ্বিক চাপেই বোধহয় তাঁর বাইরেটা হয় শক্ত  সবার মুখে হাসি ফোটাতে জল হয়ে যায় রক্ত | কাজের ফাঁকে যে মানুষটা একটু সময় প...

উদ্বিগ্ন-পাপড়ি সেনগুপ্ত

ভাল্লাগেনা এই একঘেয়ে জীবন থাকো ঘরে নইলে মরণ। যেও না তুমি কারো বাড়ি , হয়েছে যেন সবার আড়ি। ঘরে বসেই দিন কাটাও যা কিছু শখ ঘরেই মেটাও। এভাবে কি আর জীবন চলে , পিষছে মানুষ জাঁতা কলে। ফোনেই সব কাজ সারো , সামনে তুমি যেও না কারো। কিভাবে যে কাটছে দিন , অবস্থা বড়ই সঙ্গীন ! অসুখ বিসুখ ঘরে ঘরে , বাঁচবে মানুষ কেমন করে ? চারি দিকে শুধু জ্বর জারি প্রাণ কাড়ছে মহামারী ! কেবল দুশ্চিন্তায় দিন কাটে , শখ সাধ সব উঠল লাটে। কেউ না খেতে পেয়ে দিন কাটায় আর বাঁচার কোনো নেই উপায়। কত প্রিয় জনের যাচ্ছে প্রাণ পথ দেখাও তুমি হে ভগবান। ভাবলে বড়ই হতাশ লাগে ! ছিলাম বেশ দিব্যি আগে।