সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

রাত- সুচরিতা ব্যানার্জী

 




রাত, তুমি আমার বন্ধু হবে?
আমি তোমার ছবি আঁকব।
আমার অনুভূতি দিয়ে তোমায় রাঙিয়ে তুলব।
তোমার স্নিগ্ধ শান্তি আমায় মনে করিয়ে দেয়
আমার ফেলে আসা শৈশব।
কিন্তু হায়! সেদিন আজ কো়থায়
রাত, তুমি কি বিচিত্র!
তুমি কাউকে দেখাও জীবনের স্বপ্ন,
আবার কারো মনে এনে দাও আতঙ্ক।
তোমার এ কি নিষ্ঠুরতা!

তুমি কি জান,
খোলা আকাশের নীচে কত শিশু
শুধু তোমার ভরসায় আশার আলো দেখে?
কিন্তু তাদের সব স্বপ্ন শেষ হয়ে যায়
একটা গুলির শব্দে।
তোমার সৌন্দর্যকে যারা তাদের সার্থ সিদ্ধির হাতিয়ার করতে চায়
তুমি কি তাদের নীরবে সহ্য করবে?
জান রাত, আমি তোমার মধ্যে আমাকে দেখতে পাই।

ধূসর মরুভূমির মধ্যে
আমি মরীচিকার মত হাৎড়ে বেড়াই একটা নদী।
কিন্তু মাইলের পর মাইল
শুধু দেখি স্থুল পলির স্তুপ।

কিন্তু তার পরেও আমি
তোমার জন্য অপেক্ষা করব।
তোমাকে যে আমার অনেক কথা বলার আছে।
একদিন ঘুমের মধ্যে আমি শুনলাম এক কন্ঠ।
যে আমায় বলল, “এই তো আমি, তোমার বন্ধু”।
সে আরো বলল, “আমি আর এখন রাত নই।
আমার নাম নতুন ভোরের রবি।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

সাপ্তাহিক কবিতা আসর- কণ্ঠে তাপসী সিংহ ( রচনা - অংশুমান কর)

 

বাবা- কোয়েনা দাস

 কষ্টটাকে চেপে রেখে, হাসি ঠোঁটের কোণে  আদরগুলো চাপা থাকে , তাঁর ধমকই সবাই শোনে  মাথার উপর বটগাছ হয়ে দেয় আমাদের ছায়া  কঠোর মুখের গভীরেও তাঁর হাসিতে বড় মায়া | চাওয়া - পাওয়ার সব আবদার তাঁর কাছে দেয় ধরা  ছেলেবেলায় রোজ শোনাতেন ঘুম-পাড়ানি ছড়া , মেয়ে একদিন বড় হবে , যাবে শশুরবাড়ি  শতকষ্টেও বিদায় সে দেয় , মুখ করেনা হাঁড়ি  কাজের চাপে মাঝে মাঝে সময় ও পায় না  বাড়ির কথা মনে পড়ে , তবু কথা হয়না | সকাল বেলা বেরিয়ে সে যায় , কাজ থেকে ফেরে রাতে  তবু কন্যার আবদার সবই থাকে তাহার হাতে , মেয়ের ভালো রেজাল্ট হলে যার গর্বে ভরে বুক  মাঝে মাঝেই ঝিলিক দেয় উজ্জ্বল ওই মুখ  নিজের জন্য জিনিস কিনতে তাঁর ভীষণ অনীহা  সেই টাকাতে কিনবে মেয়ের বিয়ের জড়োয়া | কঠোর খোসার ভিতরে লোকানো নরম একটা মন  লক্ষ্য শুধু একটাই তাঁর - আমাদের আশাপূরণ , ক্লান্ত শরীর , টলমলে পা , তবু করতেই হবে রোজগার  টাকা ছাড়া চলবেনা দিন , তাঁর কাঁধেই গোটা সংসার  পারিপার্শ্বিক চাপেই বোধহয় তাঁর বাইরেটা হয় শক্ত  সবার মুখে হাসি ফোটাতে জল হয়ে যায় রক্ত | কাজের ফাঁকে যে মানুষটা একটু সময় প...

সাপ্তাহিক কবিতা আসর- কণ্ঠে অনামিকা চৌধুরী (রচনা - পিনাক প্রামানিক)