সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

আচানকামারের পায়ে পায়ে- সৌরভ সাউ



 ইদানিং নাকি আচানকামারে হাতি দেখা যাচ্ছে; কানাঘুষো শোনা যাচ্ছিল, অনেকদিন ধরেই। তবে, এই বর্ষার যাওয়ার উপায় নেই। ঠিক হলো, অমরকন্টক যাওয়া হবে। সেখান থেকে কিছু ফিকির করে জঙ্গলে ঢোকা যেতে পারে আলগোছে। তবে বিলাসপুর থেকে আচানকামারের ভেতর দিয়ে গাড়ী করে যাওয়া হবে না। তাছাড়া রাস্তা খারাপ ও, এমনকি, কোমর খুলে যেতেও পারে! বরঞ্চ বিলাসপুর থেকে পেন্দ্রা রোড পর্যন্ত ট্রেনে গিয়ে, ট্রেন থেকে নেমে পেন্দ্রারোড থেকে অমরকন্টক, গাড়িতে যাওয়া হলে সে অভিজ্ঞতা, রোমাঞ্চকর হবে ঢের বেশি। বিলাসপুর থেকে পেন্দ্রা রোড পর্যন্ত রেলপথ কী অপরূপ সুন্দর,, ট্রেনের মধ্যে থেকে! অনেকের মুখেই শুনেছি, কিন্তু, কখনো যাওয়ার সুযোগ হয়নি। 

সায়ন বললো, "এই বর্ষায় এই পথে ঘুরে এলে কেমন হয়...?" 

কথাটা সকলের ই মনে ধরলো।


সারাদিন কত কি কল্পনার জাল বোনা ক্ষান্ত দিয়ে অনন্ত দের বাড়ি সন্ধ্যেবেলা আড্ডা জমালাম। বাইরে অকাতরে ঝড়ছে বর্ষার বৃষ্টি। ফোন, ল্যাপটপে জোড়ায় জোড়ায় চোখ নিবদ্ধ। দেখা হচ্ছে অনলাইনে কোন ট্রেনে টিকিট পাওয়া যায়।

অনিমেষ বলল, "সবচেয়ে ভালো হয় যদি বোম্বে মেলে যাই...। সকাল সকাল বিলাসপুর নামিয়ে দেবে।" বেশ কিছুক্ষণ ঘাটাঘাটির পর সায়ন বিরক্ত মুখে বলে উঠল, "ধুর! গীতাঞ্জলি, বোম্বে মেলে কখনোই টিকিট মেলে না।" 

ওপাশ থেকে মৃন্ময় সোফা থেকে ছিটকে উঠে চেঁচিয়ে উঠলো, "আজাদহিন্দে আছে দেখছি! আর ওটা টাইমে গেলে সকাল ৯টার মধ্যে ঢুকিয়ে দেবে বিলাসপুরে। তারপর সারাদিনে অনেক গাড়ি পাওয়া যাবে পেন্দ্রারোড যাওয়ার।" 

"হ্যাঁ এটা ভাল সময়", পাশ থেকে বলে উঠলো অনিমেষ। আমি বললাম, "তাহলে এটাতেই কেটে ফেল টিকিট ঝপাঝপ।"

........

অতঃপর,

রাত ৯ টা ৪৫ মিনিটে চেপে বসা হলো আজাদ হিন্দ এক্সপ্রেসে, হাওড়া থেকে। গঙ্গার বুক থেকে একটা জোলো হাওয়া উঠে এসে আমাদের টাটা করে গেল। বর্ষা সিক্ত রাতের হাওয়ায় বুক ভরে শ্বাস নিয়ে নিলাম, কাল মৈকাল পাহাড়ের কোলে ছড়িয়ে দেবো বাংলা মাটির সোঁদা গন্ধ। 

রাতের প্রকৃতি ছুটন্ত ট্রেনের ভিতর থেকে ছোঁয়ার চেষ্টা না করে যে যার মত বার্থে উঠে গেলাম। 

ট্রেনের দুলুনিতে আর চাওলাদের হাঁকাহাঁকি তো ভোরবেলা ঘুমটা ভেঙে গেল। বার্থ থেকে নেবে ঘুমিয়ে থাকা অনন্তর মাথার কাছে জানলাটা অল্প ফাঁক করে বাইরের দিকে তাকিয়েই নির্বাক হয়ে গেলাম। মুহূর্তে ফোনের মধ্যে ম্যাপ খুলে দেখি ট্রেন ছত্রিশগড় উড়িষ্যা বর্ডারে রয়েছে।  চারিদিকে ঘন জঙ্গল আর পাহাড়ের মধ্যে দিয়ে ছুটে চলেছে আজাদ হিন্দ এক্সপ্রেস। সে এক অপূর্ব ভালোলাগায় স্তব্ধ হয়ে চেয়ে রইলাম জানালার বাইরে। বর্ষার বৃষ্টিতে জঙ্গলের রুপ ঝলসে উঠছে। খাপছাড়া জঙ্গল নয়, রীতিমত গভীর জঙ্গল। তার সাথে ধোঁয়া ধোঁয়া পাহাড়। টানা পনেরো বিশ মিনিট পর জঙ্গল ফিকে হয়ে এলো, রায়গড় পৌঁছে গেল গাড়ি। সাথে তুমুল বৃষ্টি। 

খুব একটা লেট না করেই সাড়ে নটার একটু আগে বিলাসপুর ঢুকে গেল আজাদ হিন্দ। সাথে ঝমঝম বৃষ্টি। আগেই খোঁজ নিয়ে রাখা ছিল বিলাসপুর থেকে পেন্দ্রা রোড যাওয়ার গাড়ির সময়সূচির। নর্মদা প্যাসেঞ্জার ট্রেনের টিকিট কেটে ষ্টেশনের চারপাশ টা টহল দিয়ে নিলাম। সাথে গরম গরম পুরি, চানা, সামোসা আর ছানাপোড়া দিয়ে উদর পূর্তি। "শুধু ছানাপোড়া খাওয়ার জন্যই বিলাসপুর ঘুরতে আসা যেতে পারে", বলল অনিমেষ। হেসে উঠলো সকলে। মৃন্ময় বলে উঠলো, "এর থেকেও ভালো ছানাপোড়া খেয়েছি দশপাল্লা গঞ্জে, মহানদীর ওপাড়ে। সে অতি ভয়ঙ্কর সুন্দর জায়গা! একদিকে সাতকোশিয়ার জঙ্গল আর একদিকে দশপাল্লা এলিফ্যান্ট রিজার্ভ; মাঝে পাহাড়ের উপত্যকায় দশপাল্লা টাউন।"


 ১০ টা ৪০ এর নর্মদা প্যাসেঞ্জার ষ্টেশনে ঢুকতেই জুতসই জানলার ধার দেখে উঠে বসা হল। নাগারে বৃষ্টির জন্য একদমই ভিড় নেই; প্যাসেঞ্জার ট্রেন হওয়া সত্বেও।

বিলাসপুর থেকে পেন্দ্রারোড প্রায় ৯৫ কিলোমিটারের দীর্ঘ রেলপথ। যার বেশির ভাগটাই আচানকামার, অমরকন্টক রেঞ্জের মধ্যে দিয়ে সাপের মতো এঁকেবেঁকে চলে গেছে জঙ্গলের বুক চিরে। 

ট্রেন ছাড়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই চারপাশের দৃশ্যপট দ্রুত বদলে যেতে শুরু করল। ট্রেনে ভিড় খুব একটা বেশি না থাকায় সকলের মুখেই প্রশান্ত হাসি। 

বেলঘানা স্টেশনের পর থেকেই ছত্রিশগড়ের পাহাড়-জঙ্গলের আগুনঝরা রূপ ধরা দিতে শুরু করলো। বর্ষায় কী অকল্পনীয় সৌন্দর্য্য জঙ্গলের!

লিখে প্রকাশ করার ভাষা নেই আমার। বর্ষণসিক্ত সুন্দর সুন্দর ছোট ছোট আদিবাসী গ্রাম পেরিয়ে ছুটে চলল ট্রেন। জঙ্গল যখন আরও গভীর হলো; চারিদিক থেকে বড় বড় গাছ আঁকা বাঁকা রেললাইনের ওপর ঝুঁকে আসতে শুরু করল। একসময় ট্রেনের ডানপাশে মালানিয়া নদী আমাদের সঙ্গী হলো। বর্ষায় জঙ্গলের ছোটো বড় ঝরণার মিলিত জলধারা দুরন্ত স্রোতের আকারে বয়ে আসছে। ঘন জঙ্গলের ফাঁক ফোকর দিয়ে ভয়ঙ্কর মালানিয়া যেন ট্রেনের ভিতরের যাত্রীকুলকে হাতছানি দিয়ে ডাকছে।

জঙ্গলের এই পাগল করা সৌন্দর্য্যে মুগ্ধ হয়ে জঙ্গলেই যেন হারিয়ে গেলাম।

একটু পরেই আবার মালানিয়া নদী আমাদের চোখের আড়ালে চলে গেল। চারিদিকে শুধুই নিরবিচ্ছিন্ন জঙ্গল, আর মাঝে মাঝে ছোটখাটো ঝরনা পেরিয়ে চলছে ট্রেন। যত দূর চোখ যায় শুধুই সবুজ আর সবুজ। অবশ্য এই দুর্ভেদ্য জঙ্গলে খুব বেশি দূর চোখ চলে না। মাঝে মাঝে গাছপালার মাথা ছাড়িয়ে মেঘ মেঘ নীল পাহাড় শ্রেণী উঁকি দিচ্ছে। এক একবার প্রায় ইউ টার্ণ নিচ্ছে ট্রেন, তাতে আরো রোমহর্ষক অনুভূতি হচ্ছে। একটা বিরাট ঝিল এর পাশ দিয়ে ধিকধিক করে পেরিয়ে গেল ট্রেন। জলের মধ্যে আকাশ আর গাঢ় সবুজের ছায়া পড়ে সে এক মোহময় পরিবেশ। এক জায়গায় রেললাইনের ধার থেকেই খাড়া পাথরের দেওয়াল উঠেছে। কিছুটা ওপর থেকে মহীরুহ দের শেকড় ঝুলছে পাথরের দেওয়ালের গায়ে। জল নামছে ছোট বড় ধারায়, ঝর্নার মত করে। যেন পাহাড়ের বুক চিরেই যাচ্ছে ট্রেন। পাথরের দেওয়াল পাড় করে কিছুটা এগোতেই দূরে জঙ্গলের মাথায় নীল পাহাড়ের সারি স্পষ্ট করে দেখা দিল। ওটাই অমরকন্টক রেঞ্জ, ছত্রিশগড় থেকে মধ্যপ্রদেশ অব্দি বিস্তৃত। প্রায় তিন হাজার ফিট এর ও বেশী উচ্চতা এর। এই রেললাইন অমরকন্টক পাহাড় শ্রেনী টপকাতে পারেনি। পাহাড়ের নীচে ডিনামাইট দিয়ে সুরঙ্গ তৈরি করে তার ভেতর দিয়ে ট্রেন চলাচল করে। একটা পাহাড়ি নালা পেরিয়ে ক্রমশ ঘাটের উপরে উঠতে শুরু করল ট্রেন। এই ঘাট পেরিয়েই সুরঙ্গ শুরু হবে। অনেকটা উঁচু তে উঠে যাওয়ায় বৃষ্টিস্নাত বিস্তির্ণ জঙ্গলের একটা দূর্দান্ত চিত্রপট ভেসে উঠল ট্রেনের জানালায়। নিরবিচ্ছিন্ন সবুজের সমারোহে সকলেই বাকরুদ্ধ। হাতে ধরা ক্যামেরায় ছবি তুলতে ভুলে গেছে সায়ন!

যত পথ এগোচ্ছে ততই যেন গাড়ির গতি কমে আসছে। এত অসম্ভব নিশ্চুপ জঙ্গল, যে, গাড়ির শব্দ ছাপিয়ে বর্ষা বনের নিস্তব্ধতা অনুভব করতে পারছি রীতিমত।

 মারাহি মাতার মন্দির রেললাইনের গা বেয়েই যেন গড়ে উঠেছে এই জন হীন অরণ্যে। চারপাশের গাছপালা উঁচু হতে হতে হঠাৎ ঝুপ করে অন্ধকার নেমে এলো। ট্রেন সুরঙ্গে প্রবেশ করল। এই মারাহি মাতার মন্দিরের পরই অমরকন্টক পাহাড়ের আঁচলের কাছে সুরঙ্গ। মন টা জঙ্গল থেকে ট্রেনের কামরার মধ্যে ফিরে এলো। বেশ কিছুক্ষণ অন্ধকারের মধ্যে চলে গাড়ি সুরঙ্গের বাইরে বেরোতেই তেড়ে বৃষ্টি নামলো। যাত্রীরা সব হুড়মুড় করে জানলার সার্শি নামাতে ব্যস্ত হয়ে পড়ল। তবে আমরা পাঁচ পাগল ঐ বৃষ্টির মধ্যেই বাইরে তাকিয়ে আকন্ঠ পান করে চললাম মৈকাল অরণ্যের মাতাল সৌন্দর্য্য। পেন্দ্রারোড আসতে আর বেশি দেরি নেই...।

মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

লেদ মেশিন- মনোজ কুমার সরকার

বহুদিন আগের কথা। আমি তখন অবিভক্ত বিহারের একটি অঞ্চলে কারখানার সুপারভাইজার।বেশিরভাগকর্মচারী অবাঙালী হলেও তাদের মধ্যে জনা পাঁচেক বাঙালীও ছিল। এদের মধ্যে আবার প্রিয়তোষ ছিল ম্যানেজার। ঐ যা হয়, ধীরে ধীরে আমাদের মধ্যে একটা বন্ধুত্ব গড়ে উঠলো। তাছাড়া ও ছিল আমার মতই গ্রাজুয়েট। সত্যি কথা বলতে কি সারাজীবনে প্রিয়র মত বন্ধু আর কখনো পাইনি। আমি শুরুতেই মধুপুরের কাছে ঝিল্লি এলাকায় একটি বাড়ি ভাড়া নিয়েছিলাম। বাড়িওয়ালা সুখান রাম একদিন বলেছিল,"একটা কথা বলি বাঙালি বাবু, কিছু মনে করবেন না, এখানে আপনি একা থাকেন, কোনো বন্ধু জুটিয়ে লিন, বাড়িভাড়া আধা হয়ে যাবে"। আমারও কথাটা মনে ধরল। পরদিন কাজের ফাঁকে চুপিচুপি প্রিয়তোষ কে কথাটা বলতেই ও যেন হাতে চাঁদ পেল। খুবই খুশি হয়ে বলল,"এ তো খুবই ভালো প্রস্তাব, লোভনীয় তাতে সন্দেহ নেই, আমি যেখানে এখন থাকি তাকে ভদ্র পাড়া বলা চলে না,বুঝলে ভায়া কিছু চাষাভুসো খোট্টাদের বাস সেখানে। তারপর রাত্রিবেলা মাতাল হয়ে যা শুরু করে তাতে ঘুম তো দূরের কথা টেকা দায় হয়ে পড়ে"। আমি বাড়ি বদলানোর কথা বলতেই ও বললো,আজকে রবিবার, খুবই ভালো সময়। ওইদিন ছুটি আছে ফ...

বাবা- কোয়েনা দাস

 কষ্টটাকে চেপে রেখে, হাসি ঠোঁটের কোণে  আদরগুলো চাপা থাকে , তাঁর ধমকই সবাই শোনে  মাথার উপর বটগাছ হয়ে দেয় আমাদের ছায়া  কঠোর মুখের গভীরেও তাঁর হাসিতে বড় মায়া | চাওয়া - পাওয়ার সব আবদার তাঁর কাছে দেয় ধরা  ছেলেবেলায় রোজ শোনাতেন ঘুম-পাড়ানি ছড়া , মেয়ে একদিন বড় হবে , যাবে শশুরবাড়ি  শতকষ্টেও বিদায় সে দেয় , মুখ করেনা হাঁড়ি  কাজের চাপে মাঝে মাঝে সময় ও পায় না  বাড়ির কথা মনে পড়ে , তবু কথা হয়না | সকাল বেলা বেরিয়ে সে যায় , কাজ থেকে ফেরে রাতে  তবু কন্যার আবদার সবই থাকে তাহার হাতে , মেয়ের ভালো রেজাল্ট হলে যার গর্বে ভরে বুক  মাঝে মাঝেই ঝিলিক দেয় উজ্জ্বল ওই মুখ  নিজের জন্য জিনিস কিনতে তাঁর ভীষণ অনীহা  সেই টাকাতে কিনবে মেয়ের বিয়ের জড়োয়া | কঠোর খোসার ভিতরে লোকানো নরম একটা মন  লক্ষ্য শুধু একটাই তাঁর - আমাদের আশাপূরণ , ক্লান্ত শরীর , টলমলে পা , তবু করতেই হবে রোজগার  টাকা ছাড়া চলবেনা দিন , তাঁর কাঁধেই গোটা সংসার  পারিপার্শ্বিক চাপেই বোধহয় তাঁর বাইরেটা হয় শক্ত  সবার মুখে হাসি ফোটাতে জল হয়ে যায় রক্ত | কাজের ফাঁকে যে মানুষটা একটু সময় প...

উদ্বিগ্ন-পাপড়ি সেনগুপ্ত

ভাল্লাগেনা এই একঘেয়ে জীবন থাকো ঘরে নইলে মরণ। যেও না তুমি কারো বাড়ি , হয়েছে যেন সবার আড়ি। ঘরে বসেই দিন কাটাও যা কিছু শখ ঘরেই মেটাও। এভাবে কি আর জীবন চলে , পিষছে মানুষ জাঁতা কলে। ফোনেই সব কাজ সারো , সামনে তুমি যেও না কারো। কিভাবে যে কাটছে দিন , অবস্থা বড়ই সঙ্গীন ! অসুখ বিসুখ ঘরে ঘরে , বাঁচবে মানুষ কেমন করে ? চারি দিকে শুধু জ্বর জারি প্রাণ কাড়ছে মহামারী ! কেবল দুশ্চিন্তায় দিন কাটে , শখ সাধ সব উঠল লাটে। কেউ না খেতে পেয়ে দিন কাটায় আর বাঁচার কোনো নেই উপায়। কত প্রিয় জনের যাচ্ছে প্রাণ পথ দেখাও তুমি হে ভগবান। ভাবলে বড়ই হতাশ লাগে ! ছিলাম বেশ দিব্যি আগে।