সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

কষ্ট- বন্যা ব্যানার্জী

BengaliProseKosto


 ডাক্তার এসে সার্টিফিকেট দিলেন -স্ট্রোক।আধঘন্টা আগেই....।বেশ লাগল শুনতে।এতদিন অন্য করো শুনেছি,আজ নিজের।বাড়িতে কান্নার রোল উঠলো।পাড়া প্রতিবেশী চমকালো।কেউ বললো "ইশ সবে ষাট পেরিয়েছে।ভাগ্গি মেয়ের বিয়েটা হয়ে গিয়েছিল!" আবার কেউ বলে উঠলো " আরে আজ ই তো সকালে বাজারে দেখা হলো!" এসব কথা চলতেই থাকবে।চলতি ফিরতি লোকটা হঠাৎ এমন টসকে গেলে হায় হায় তো করবেই সবাই।

             আমার মেজাজ ফুরফুরে।এতোদিনে সংসারের জোয়াল থেকে মুক্তি।কাকভোরে উঠে মর্ণিং ওয়াক যাওয়া নেই,লাফিং ক্লাবে কষ্ট করে হাসা নেই।বাজারের ব্যাগ হাতে পেনশনের টাকার হিসেব মাথায় রেখে রূপোলী ইলিশের মায়া ত্যাগ নেই।সুগার প্রেসারের গন্ডি নেই।বয়েস বড় বেয়াড়া রসিকতা জুড়েছিল জীবন থেকে মিষ্টি সরিয়ে নিয়ে।ঐ কালো তেঁতো চা গলদকরণ করাও একটা কষ্টের কাজ ছিল।চারিদিকে যে অবিচার অন্যায় নির্বিবাদে হয়ে চলেছে তার প্রতিবাদ করতে চেয়েও না পারার যে যন্ত্রনা তা যে কতো ভয়ঙ্কর! সত্যি আমার মত মেনিমুখো মানুষের বেঁচে থাকার  কোন কারণই থাকা উচিত নয়।

নিয়ম কানুন সব সারা।আরে ছেলেটা আবার কান্না জুড়লো কেন! ওরে ব্যাটা মৃত্যুর জন্য যে গোটা একখানা জীবন লাগে রে! তুই তো রইলি ই।

শববাহক গাড়ী এসে দাঁড়াতেই কিছু পুরনো লোক বলে উঠলো নিয়ম ভেঙনা বাপু।কাঁধে করে কিছুটা বয়ে নিয়ে তারপর গাড়ী।মেয়েটা কাঁদছে একনাগাড়ে,বৌ টা বুকের ওপর আছারি,পিছারি।দূর বাবা এমন করলে কি যাওয়া যায়!

গাড়ী টা বড্ড ছোট,চারিদিক বন্ধ।এইরে! আমার কলম? ওরে ও নীতু? ও নীতুর মা! শুনতে পাচ্ছ!আমার কলম টা এনে দাও।ওটা কে ছেড়ে যে আমার সগ্গে গিয়েও সুখ নেই গো!সব চিৎকার,সব প্রতিবাদ,সব ইচ্ছা যে আমার ওই কলম খানা।শুনতে পাচ্ছ! সোনার আঙটি খানা না হয় খুলে নিয়েছ,কিন্তু কলম খানা আমাকে দাও!ওটার খুব দরকার,খুব!

"ইউ গেইন্ড এ নিউ লাইফ"কপালে হাত রেখে ডাক্তার বাবু স্বস্তির হাসি হাসলেন।অক্সিজেন মাস্কের ভেতর আমি  আমার শ্বাস প্রশ্বাস টের পেলুম।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

সাপ্তাহিক কবিতা আসর- কণ্ঠে তাপসী সিংহ ( রচনা - অংশুমান কর)

 

বাবা- কোয়েনা দাস

 কষ্টটাকে চেপে রেখে, হাসি ঠোঁটের কোণে  আদরগুলো চাপা থাকে , তাঁর ধমকই সবাই শোনে  মাথার উপর বটগাছ হয়ে দেয় আমাদের ছায়া  কঠোর মুখের গভীরেও তাঁর হাসিতে বড় মায়া | চাওয়া - পাওয়ার সব আবদার তাঁর কাছে দেয় ধরা  ছেলেবেলায় রোজ শোনাতেন ঘুম-পাড়ানি ছড়া , মেয়ে একদিন বড় হবে , যাবে শশুরবাড়ি  শতকষ্টেও বিদায় সে দেয় , মুখ করেনা হাঁড়ি  কাজের চাপে মাঝে মাঝে সময় ও পায় না  বাড়ির কথা মনে পড়ে , তবু কথা হয়না | সকাল বেলা বেরিয়ে সে যায় , কাজ থেকে ফেরে রাতে  তবু কন্যার আবদার সবই থাকে তাহার হাতে , মেয়ের ভালো রেজাল্ট হলে যার গর্বে ভরে বুক  মাঝে মাঝেই ঝিলিক দেয় উজ্জ্বল ওই মুখ  নিজের জন্য জিনিস কিনতে তাঁর ভীষণ অনীহা  সেই টাকাতে কিনবে মেয়ের বিয়ের জড়োয়া | কঠোর খোসার ভিতরে লোকানো নরম একটা মন  লক্ষ্য শুধু একটাই তাঁর - আমাদের আশাপূরণ , ক্লান্ত শরীর , টলমলে পা , তবু করতেই হবে রোজগার  টাকা ছাড়া চলবেনা দিন , তাঁর কাঁধেই গোটা সংসার  পারিপার্শ্বিক চাপেই বোধহয় তাঁর বাইরেটা হয় শক্ত  সবার মুখে হাসি ফোটাতে জল হয়ে যায় রক্ত | কাজের ফাঁকে যে মানুষটা একটু সময় প...

সাপ্তাহিক কবিতা আসর- কণ্ঠে অনামিকা চৌধুরী (রচনা - পিনাক প্রামানিক)